মোটরসাইকেলের ১০ বছরের ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ শেষ? জেনে নিন পরবর্তী করণীয় - Technical Alamin
BRTA Information

মোটরসাইকেলের ১০ বছরের ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ শেষ? জেনে নিন পরবর্তী করণীয়

বাংলাদেশে মোটরসাইকেল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ট্যাক্স টোকেন একটি অপরিহার্য নথি। অনেকেই মনে করেন ১০ বছরের এককালীন ট্যাক্স পরিশোধ করা থাকলে মেয়াদ শেষে আর কোনো আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই। তবে বিষয়টি ভুল। ১০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর আইনগত জটিলতা এড়াতে এবং বৈধভাবে সড়কে চলাচল করতে নতুন ‘ট্যাক্স ফ্রি টোকেন’ সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক।

১০ বছর পর নবায়নের প্রক্রিয়া

যেসকল বাইকার ১০ বছরের ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ পূর্ণ করেছেন এবং ইতিপূর্বে সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করেছেন, তাদের জন্য প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ। এক্ষেত্রে করণীয় হলো:

১. ব্যাংক ফি জমা: বিআরটিএ (BRTA) অনুমোদিত যেকোনো ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ২৩ টাকা ফি জমা দিতে হবে। ফি জমা দেওয়ার সময় সাথে করে পূর্বের ট্যাক্স টোকেনের মূল কপি এবং এক কপি ফটোকপি নিয়ে যেতে হবে। ২. স্লিপ সংগ্রহ: ফি জমা দেওয়ার পর ব্যাংক থেকে একটি রশিদ বা স্লিপ দেওয়া হবে। ৩. বিআরটিএ থেকে টোকেন সংগ্রহ: এরপর মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন যে বিআরটিএ সার্কেলের অধীনে, সেখানকার সহকারী পরিচালকের (AD) কাছে ব্যাংক স্লিপ এবং মূল ট্যাক্স টোকেনটি উপস্থাপন করতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে সেখান থেকে একটি নতুন ‘ট্যাক্স ফ্রি টোকেন’ প্রদান করা হবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: ফাইনান্সিয়াল এসিস্টেন্স ফান্ড

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসকল গ্রাহক ইতিপূর্বে ‘ফাইনান্সিয়াল এসিস্টেন্স ফান্ড’ (Financial Assistance Fund Fee) বাবদ এককালীন ১,১৫০ টাকা পরিশোধ করেননি, তাদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ২৩ টাকা জমা দিলে হবে না। তাদের ওই ১,১৫০ টাকা এবং ভ্যাটসহ মোট ১,১৮৩ টাকা জমা দিয়ে একই পদ্ধতিতে নতুন টোকেন সংগ্রহ করতে হবে। ইতিপূর্বে এই ফান্ডে টাকা জমা দেওয়া থাকলে শুধু ২৩ টাকা দিলেই চলবে।

পরবর্তী মেয়াদ ও আইনি বাধ্যবাধকতা

সংগৃহীত নতুন ট্যাক্স ফ্রি টোকেনটি পরবর্তী ৫ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকবে। ৫ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর পুনরায় একই পদ্ধতিতে মাত্র ২৩ টাকা ফি দিয়ে এটি আপডেট বা রিনিউ করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, পুরাতন বা মেয়াদোত্তীর্ণ ট্যাক্স টোকেন নিয়ে সড়কে চলাচল করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ট্রাফিক পুলিশের মামলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানি এড়াতে সময়মতো ট্যাক্স টোকেন হালনাগাদ করার জন্য বাইকারদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মাত্র ২৩ টাকা দিয়ে ৫ বছর নবায়ন?

হ্যাঁ, বিষয়টি শুনতে অবাক করার মতো মনে হলেও আপনার দেওয়া তথ্য এবং বিআরটিএ-এর নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি সঠিক। তবে এখানে একটি সূক্ষ্ম কারিগরি বিষয় আছে যা পরিষ্কার হওয়া জরুরি।

আসলে এই ২৩ টাকা কোনো “ট্যাক্স” বা কর নয়, বরং এটি ট্যাক্স ফ্রি টোকেন ইস্যু করার প্রশাসনিক ফি বা সার্ভিস চার্জ। নিচে বিষয়টি সহজ করে ব্যাখ্যা করা হলো:

কেন মাত্র ২৩ টাকা?

১. এককালীন ট্যাক্স পরিশোধ: সাধারণত মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের সময় আমরা ১০ বছরের ট্যাক্স একবারে দিয়ে দিই। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ১০ বছর পর্যন্ত ট্যাক্স দেওয়া থাকলে আপনার মোটরসাইকেলটি ‘ট্যাক্স পেইড’ হিসেবে গণ্য হয়। ২. ১০ বছর পরের অবস্থা: ১০ বছর পার হয়ে গেলে মোটরসাইকেলের আর বাড়তি কোনো বার্ষিক ট্যাক্স দিতে হয় না (যদি সিসি লিমিট বা নিয়ম অপরিবর্তিত থাকে)। কিন্তু আপনার কাছে যে কাগজটি (টোকেন) আছে, সেটির মেয়াদের ঘরে একটি তারিখ শেষ হয়ে যায়। ৩. টোকেন আপডেট: যেহেতু আপনার ট্যাক্স আজীবনের জন্য বা দীর্ঘমেয়াদে পরিশোধিত, তাই বিআরটিএ আপনাকে নতুন একটি কাগজ দেয় যেখানে পরবর্তী ৫ বছরের জন্য আপনাকে “ট্যাক্স থেকে অব্যাহতি” (Tax Free) দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ থাকে। এই নতুন কাগজ বা টোকেনটি প্রিন্ট করা এবং ডাটাবেস আপডেট করার ফি হিসেবেই ওই ২৩ টাকা নেওয়া হয়।

মনে রাখার মতো কিছু পয়েন্ট:

  • ফাইনান্সিয়াল এসিস্টেন্স ফান্ড: যদি আগে ১,১৫০ টাকা (আর্থিক সহায়তা তহবিল) জমা দেওয়া না থাকে, তবে কিন্তু ২৩ টাকায় হবে না। তখন মোট ১,১৮৩ টাকা লাগবে।

  • বিআরটিএ ভিজিট: এই ফি-টি ব্যাংকে জমা দিলেও নতুন টোকেনটি সংগ্রহ করতে আপনাকে অবশ্যই মূল বিআরটিএ অফিসে যেতে হবে। ব্যাংক আপনাকে শুধু টাকা জমার রশিদ দেবে, টোকেন নয়।

  • ৫ বছর পর পর: একবার ২৩ টাকা দিয়ে টোকেন নিলে সেটি ৫ বছর চলবে। ৫ বছর শেষ হলে আবার একইভাবে ২৩ টাকা দিয়ে সেটি নবায়ন করতে হবে।

সহজ কথায়, আপনি ট্যাক্স আগেই দিয়ে দিয়েছেন, এখন শুধু নামমাত্র ফি দিয়ে “কাগজটি” সচল রাখছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *