সরকারি আপডেট নিউজ

নবম পে-স্কেল এক ধাপে শতভাগ বাস্তবায়নের দাবি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির

প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলের শতভাগ মূল বেতন এক ধাপে কার্যকরের জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই দাবি উত্থাপন করেন এর আহ্বায়ক আবদুল মালেক।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক সুরক্ষা ও বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে নবম পে-স্কেল ধাপে ধাপে নয়, বরং এক ধাপে সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়।

দীর্ঘ ১১ বছরের বঞ্চনা ও আর্থিক সংকট

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আহ্বায়ক আবদুল মালেক বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পার হয়ে গেলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনো নবম পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত। অথচ এই সময়ের মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী দুটি পে-স্কেল পাওয়ার সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের পর অধিকাংশ কর্মচারীর মৌলিক বেতন কাঠামোয় তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। অন্যদিকে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি চলছে। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাস্তব আয় এবং ক্রয়ক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। দীর্ঘদিন বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

টাইম স্কেল বাতিল ও ইনক্রিমেন্ট জটিলতা

কর্মচারীদের পদোন্নতি ও ইনক্রিমেন্ট জটিলতার চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়:

  • টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল: ২০১৫ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করায় ব্লক পোস্টধারী ও পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মচারীদের গ্রেড পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে একই পদে ১০ বছরেরও বেশি সময় চাকরি করার পরও অনেক কর্মচারী গ্রেড উন্নয়নের সুযোগ পাচ্ছেন না।

  • ইনক্রিমেন্ট থেকে বঞ্চিত: ২০২০ সালে নতুন পে-স্কেল কার্যকর না হওয়ায় অনেক কর্মচারী ইতিমধ্যে তাদের বেতনের সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছে গেছেন। ফলে তারা বার্ষিক নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

এক ধাপে বাস্তবায়নের ঐতিহাসিক যুক্তি

জাতীয় সংসদে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা কর্মচারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করলেও, এটি ধাপে ধাপে কার্যকর করার আলোচনা সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অতীতের পে-স্কেল বাস্তবায়নের নজির টেনে কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, অতীতে কোনো পে-স্কেলের মূল বেতন দুই ধাপের বেশি সময় নিয়ে বাস্তবায়ন করা হয়নি।

  • ২০০৫ সালের পে-স্কেল: দেড় বছরে তিন ধাপে বাস্তবায়িত হয়।

  • ২০০৯ সালের পে-স্কেল: দুই ধাপে বাস্তবায়িত হয়। (উল্লেখযোগ্য যে, উভয় ক্ষেত্রেই প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করা হয়েছিল।)

  • ২০১৫ সালের অষ্টম পে-স্কেল: সম্পূর্ণ এক ধাপেই বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।

অতএব, পূর্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নবম পে-স্কেলের মূল বেতনও এক ধাপে শতভাগ কার্যকর করা যৌক্তিক।

কল্যাণ সমিতির অন্যান্য দাবিমালা

সংবাদ সম্মেলনে শুধু পে-স্কেলই নয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো:

১. ২০১৫ সালে বাতিল হওয়া তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনরায় চালু করা। ২. সরকারি কর্মচারীদের জন্য শতভাগ পেনশন উত্তোলনের সুযোগ পুনর্বহাল করা। ৩. পেনশন গ্র্যাচুইটির হার বিদ্যমান ২৩০ টাকা থেকে দ্বিগুণ করা। ৪. বর্তমান বাজার ব্যবস্থার সাথে সংগতি রেখে টিফিন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতা সময়োপযোগী হারে বৃদ্ধি করা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, সরকার সরকারি কর্মচারীদের এই ন্যায়সংগত দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *