২২ ক্যারেট সোনার দাম ২০২৬ । উচ্চ মূল্যস্ফিতির কারণে স্বর্ণের দাম প্রতিনিয়ত হ্রাস বৃদ্ধি?
২০২৬ সালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে এর দাম প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)-এর সর্বশেষ আপডেট (১৭ মার্চ ২০২৬) অনুযায়ী সোনার বর্তমান মূল্য তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
আজকের সোনার দাম (১৮ মার্চ ২০২৬)
| সোনার ধরণ | প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) |
| ২২ ক্যারেট | ২,৬২,২৬৫ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ২,৫০,৩৬৮ টাকা |
| ১৮ ক্যারেট | ২,১৪,৬১৮ টাকা |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,৭৪,৭৮৫ টাকা |
সোনার দাম হ্রাস-বৃদ্ধির মূল কারণসমূহ
আপনি ঠিকই ধরেছেন, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি স্বর্ণের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এর পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করছে:
-
নিরাপদ বিনিয়োগ (Safe Haven): যখন মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে এবং টাকার মান কমে যায়, তখন মানুষ ব্যাংক আমানত বা শেয়ার বাজারের চেয়ে সোনাকে বেশি নিরাপদ মনে করে। এতে চাহিদা বেড়ে যায় এবং দামও বৃদ্ধি পায়।
-
ডলারের বিনিময় হার: বাংলাদেশে সোনার দাম আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি ডলারের দামের ওপরও নির্ভরশীল। ডলারের দাম বাড়লে আমদানি খরচ বেড়ে যায়, যার ফলে স্থানীয় বাজারে সোনার দাম লাফিয়ে বাড়ে।
-
বৈশ্বিক অস্থিরতা: ২০২৬ সালের শুরুতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বিপুল পরিমাণ সোনা মজুদ করায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার আউন্স প্রতি দাম রেকর্ড উচ্চতায় (প্রায় ৫,৫০০ ডলার পর্যন্ত) পৌঁছেছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাজুস স্থানীয় বাজারে ‘তেজাবি স্বর্ণ’ বা পিওর গোল্ডের দামের ওপর ভিত্তি করে প্রায় প্রতিদিনই দাম সমন্বয় করে থাকে। অলঙ্কার কেনার সময় এই মূল্যের সাথে সরকার নির্ধারিত ৫% ভ্যাট এবং জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানভেদে মজুরি খরচ যুক্ত হবে।

