জানুয়ারির মধ্যেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি: বেতন বৈষম্য দূর করার আহ্বান
সরকারি চাকরিতে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জমা পড়েছে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন। আজ বুধবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন জমা হওয়ার সাথে সাথেই সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ। বিশেষ করে নিচু তলার কর্মচারীরা দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি এবং চলতি মাস অর্থাৎ জানুয়ারির মধ্যেই এর বাস্তবায়ন চাইছেন।
বেতন ব্যবধান ও বাস্তব চিত্র
প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রস্তাবিত নতুন স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৮,২৫০ টাকা। তবে কর্মচারীদের একটি বড় অংশের দাবি, উচ্চ ও নিম্ন পদের মধ্যে বেতনের যে বিশাল ব্যবধান আগের স্কেলগুলোতে ছিল, নতুন সুপারিশেও তার প্রতিফলন রয়ে গেছে। অর্থাৎ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে নিচু তলার কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান ও সুযোগ-সুবিধার বিশাল পার্থক্য রয়েই যাচ্ছে।
আন্দোলনরত কয়েকজন কর্মচারী প্রতিনিধি জানান, “বেতন বেড়েছে সত্য, কিন্তু পদমর্যাদা ও গ্রেড অনুযায়ী ব্যবধান সেই আগের মতোই বজায় রাখা হয়েছে। তবুও দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির বাজারে আমরা একে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি (আলহামদুলিল্লাহ)।”
দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি
কমিশনের প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো আংশিকভাবে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের দাবি, বিষয়টি যেন শুধুমাত্র কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। আগামী মাসের বেতনেই যেন এই নতুন স্কেলের সুবিধা পাওয়া যায়, সে লক্ষ্যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির প্রত্যাশা করছেন তারা।
কমিশনের সুপারিশের মূল দিকগুলো:
-
সর্বনিম্ন মূল বেতন: ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব।
-
সর্বোচ্চ মূল বেতন: ১,৬০,০০০ টাকা (সচিবদের ক্ষেত্রে)।
-
গ্রেড সংখ্যা: বর্তমানে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল থাকছে।
-
স্বাস্থ্য ও বিমা: প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের জন্য বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য বিমা ও আধুনিক পেনশন ব্যবস্থার প্রস্তাব।
বিশ্লেষকদের মতামত
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বেতন বাড়ানোর ফলে সরকারের প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার বাড়তি ব্যয় হবে। তবে বর্তমান বাজার দরের সাথে তাল মেলাতে কর্মচারীদের এই দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। এখন দেখার বিষয়, সরকার কতটা দ্রুত এই সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে।
সাধারণ কর্মচারীদের একটাই চাওয়া—”দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যে প্রস্তাব এসেছে, তা যেন আর পিছিয়ে না যায়। জানুয়ারির মধ্যেই এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন আমরা দেখতে চাই।”


