নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে সরকার: আসন্ন বাজেটে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ, বেসিক বৃদ্ধির গুঞ্জনে উন্মুখ সরকারি চাকরিজীবীরা
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করছে সরকার। নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য ও সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আসন্ন জাতীয় বাজেটে এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে প্রায় ৩০ থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ ‘থোক বরাদ্দ’ রাখার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টি ইতিমধ্যে প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বেসিক ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির জোরালো গুঞ্জন নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বা বেসিকের প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার জোরালো পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে সবচেয়ে বড় চমক আসতে পারে নিম্নস্তরের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে। প্রশাসন ও সচিবালয়ের বিভিন্ন স্তরে জোর গুঞ্জন চলছে যে, বর্তমান বাজারমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে মূল বেতনের (বেসিকের) শতভাগ (১০০%) পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে মাঠপর্যায়ের ও নিম্ন-আয়ের সরকারি কর্মচারীরা বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাজারে বড় ধরনের আর্থিক স্বস্তি পাবেন।
বাজেট অধিবেশন ও চূড়ান্ত ঘোষণার সময়সূচি সংযুক্ত দালিলিক প্রমাণ (1.jpg) এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৭ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশন তথা বাজেট অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির আহ্বানে ওই দিন বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে এই ঐতিহাসিক অধিবেশন শুরু হবে।
তবে সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতিক্ষিত পে-স্কেলের বরাদ্দের বিষয়ে ৭ জুনেই কোনো আনুষ্ঠানিক বা চূড়ান্ত ঘোষণা আসছে না। জানা গেছে, আগামী ১১ জুন সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করবেন মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী কর্তৃক বাজেট উপস্থাপনের সেই বিশেষ দিনটিতেই নতুন পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দ এবং বেতন বৃদ্ধির কাঠামোগত হার সম্পর্কে শতভাগ সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত তথ্য দেশবাসী জানতে পারবেন।
একনজরে নতুন পে-স্কেল ও বাজেট প্রস্তাবনার মূল দিকসমূহ:
-
সম্ভাব্য বিশেষ থোক বরাদ্দ: ৩০ হাজার কোটি থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকা (যার মধ্যে ৩৫ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত)।
-
প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধি: সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মূল বেতনের (বেসিক) প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির পরিকল্পনা।
-
নিম্ন গ্রেডের জন্য বিশেষ গুঞ্জন: ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বেসিকের শতভাগ (১০০%) বৃদ্ধির জোরালো সম্ভাবনা।
-
বাজেট অধিবেশন শুরু: আগামী ৭ জুন, বেলা ৩টা (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশন)।
-
বাজেট পেশ ও চূড়ান্ত ঘোষণা: আগামী ১১ জুন, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক বাজেট পেশের দিন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতির বাজারে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে এই নতুন পে-স্কেল সময়ের দাবি। তবে বিশাল অঙ্কের এই থোক বরাদ্দ এবং বেতন বৃদ্ধির ফলে জাতীয় বাজেটে যে বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হবে, তা সামাল দিতে রাজস্ব আহরণ ও করের পরিধি বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে সরকারকে। আগামী ১১ জুনের বাজেট পেশের দিকেই এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছেন দেশের লাখ লাখ সরকারি চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ।

