৯ম পে-স্কেল ২০২৬: নতুন বেতন নির্ধারণ, ইনক্রিমেন্ট ও ভাতার হিসাব হবে স্বয়ংক্রিয়! তৈরি হচ্ছে মাসিক বেতন বিবরণী ও স্যালারি শিট
জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণ, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা এবং বিভিন্ন কর্তনের হিসাব সহজ করতে তৈরি করা হয়েছে একটি বিশেষ সরকারি কর্মচারীর বেতন বিবরণী জেনারেটর। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মচারীরা নিজেদের গ্রেড, পুরোনো মূল বেতন এবং প্রযোজ্য বিভিন্ন তথ্য নির্বাচন করে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সম্ভাব্য বেতন নির্ধারণী বিবরণী তৈরি করতে পারবেন।
বিশেষ করে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতনস্কেল থেকে ২০২৬ সালের নতুন বেতনস্কেলে বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে পুরোনো মূল বেতন, নতুন গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপ, বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ এবং পরবর্তী ধাপের ইনক্রিমেন্ট হিসাব করার বিষয়গুলোকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ। তৈরি করা জেনারেটরে রয়েছে কর্মচারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংযোজন, গ্রেড নির্বাচন, মূল বেতন নির্ধারণ, ভাতা-কর্তন হিসাব এবং মাসভিত্তিক স্যালারি শিট তৈরির সুবিধা।
বেতন নির্ধারণে থাকছে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ
জেনারেটরটির কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পুরো ব্যবস্থাটি পাঁচটি পৃথক অংশে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি অংশে নির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করলে পরবর্তী অংশের হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়।
প্রথম অংশে কর্মচারীর নাম, পদবি, অফিস বা দপ্তরের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর, জন্মতারিখ, চাকরিতে প্রথম যোগদানের তারিখ, যোগদানের পদ, ভেরিফিকেশন নম্বর এবং সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
দ্বিতীয় অংশে রয়েছে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী গ্রেড নির্বাচন। এখানে গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-২০ পর্যন্ত নির্বাচন করা যাবে। গ্রেড নির্বাচন করলে সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন, পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন এবং নতুন স্কেলের ধাপের তালিকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তৃতীয় অংশে কর্মচারীর ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের গৃহীত মূল বেতন নির্বাচন করতে হবে। পাশাপাশি পিপিপি বা প্রযোজ্য অতিরিক্ত বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং বিভিন্ন তারিখে বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে।
চতুর্থ অংশে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, টিফিন, যাতায়াত, ধোলাইসহ অন্যান্য ভাতা এবং ভবিষ্য তহবিল, কল্যাণ তহবিল, আয়কর ও অন্যান্য কর্তনের হিসাব যুক্ত করা যাবে।
সবশেষে পঞ্চম অংশে তৈরি হবে পূর্ণাঙ্গ বেতন বিবরণী এবং মাসিক স্যালারি শিট।
২০১৫ ও ২০২৬ সালের বেতন কাঠামোর মধ্যে তুলনা
জেনারেটরটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো পুরোনো ও নতুন বেতন কাঠামোর মধ্যে তুলনামূলক হিসাব করার ব্যবস্থা।
এখানে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কর্মচারী যে মূল বেতন গ্রহণ করছিলেন, সেটি নির্বাচন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট গ্রেডের পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক মূল বেতন এবং ২০২৬ সালের নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক মূল বেতনের ভিত্তিতে পার্থক্য নির্ণয় করা হবে।
জেনারেটরের নির্ধারিত সূত্র অনুযায়ী:
নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক মূল বেতন + পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের তুলনায় পার্থক্য = সমন্বয়যোগ্য বেতন।
এরপর নতুন স্কেলের ধাপ তালিকা থেকে সমান বা পরবর্তী উচ্চতর ধাপ নির্বাচন করে সম্ভাব্য নির্ধারিত মূল বেতন দেখানো হবে।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো কর্মচারীর পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ৯ হাজার ৩০০ টাকা এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে গৃহীত মূল বেতন ১২ হাজার ৪৯০ টাকা হলে পার্থক্য দাঁড়াবে ৩ হাজার ১৯০ টাকা।
এখন নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ২১ হাজার ৯০০ টাকা হলে হিসাব অনুযায়ী সমন্বয়যোগ্য বেতন হবে ২৫ হাজার ৯০ টাকা। পরবর্তী ধাপের তালিকা অনুযায়ী নির্ধারিত বেতন নির্বাচন করতে হবে।
এটি জেনারেটরের সূত্রভিত্তিক উদাহরণ; প্রকৃত পে-ফিক্সেশন সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধি ও অনুমোদিত ধাপের সঙ্গে মিলিয়ে করতে হবে।
ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির হিসাব
জেনারেটরটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে বিভিন্ন তারিখে বেতন বৃদ্ধির হিসাব প্রদর্শন।
এতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ রাখা হয়েছে:
-
১ জুলাই ২০২৬
-
১ জানুয়ারি ২০২৭
-
১ জুলাই ২০২৭
-
১ জানুয়ারি ২০২৮
প্রোগ্রামটির ডিফল্ট সেটিং অনুযায়ী গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৯-এর ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ, পরবর্তী ধাপে মোট ৭০ শতাংশ এবং শেষ ধাপে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে গ্রেড-১০ থেকে গ্রেড-২০-এর ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ, পরবর্তী ধাপে মোট ৭৫ শতাংশ এবং শেষ ধাপে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির হার রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ জেনারেটরটির হিসাব পদ্ধতিতে বেতন বৃদ্ধিকে একবারে সম্পূর্ণ প্রয়োগ না করে কয়েকটি পর্যায়ে ভাগ করে দেখানো হয়েছে।
তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এগুলো জেনারেটরের প্রাথমিক কনফিগারেশন। সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশে নির্ধারিত হার ও কার্যকর তারিখের সঙ্গে মিলিয়ে না দেখে এগুলোকে চূড়ান্ত সরকারি বেতন বৃদ্ধির নিয়ম হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
বাড়িভাড়া ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার হিসাব
সরকারি কর্মচারীদের মাসিক বেতনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাড়িভাড়া ভাতা। এ কারণে জেনারেটরে কর্মচারীর কর্মস্থল অনুযায়ী বাড়িভাড়ার হিসাব করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এতে তিন ধরনের কর্মস্থল নির্বাচন করা যাবে:
1. ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকা।
2. চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন এবং সাভার পৌর এলাকা।
3. অন্যান্য স্থান।
বাড়িভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশ এবং সর্বনিম্ন নির্ধারিত টাকার পরিমাণ বিবেচনায় নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
জেনারেটরের কোড অনুযায়ী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতনকে ভিত্তি ধরে আগের সময়ের বাড়িভাড়া হিসাব করা হচ্ছে। তবে নতুন ভাতার অংশে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন মূল বেতনের ওপর হিসাব করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া চিকিৎসা, টিফিন, যাতায়াত, ধোলাই, মোবাইল এবং অন্যান্য ভাতা যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
জেনারেটরে প্রদর্শিত প্রাথমিক উদাহরণ অনুযায়ী:
| ভাতার ধরন | পুরোনো ভাতা অংশ | নতুন ভাতা অংশ |
|---|---|---|
| চিকিৎসা ভাতা | ১,৫০০ টাকা | ৩,০০০ টাকা |
| টিফিন ভাতা | ২০০ টাকা | ৫০০ টাকা |
| যাতায়াত ভাতা | ০ টাকা | ৬০০ টাকা |
| ধোলাই ভাতা | ১০০ টাকা | ৩০০ টাকা |
| মোবাইল ভাতা | ০ টাকা | ১৫০ টাকা |
এগুলো জেনারেটরে পূর্বনির্ধারিত উদাহরণমূলক মান। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য সরকারি আদেশ অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে।
ভবিষ্য তহবিল ও অন্যান্য কর্তনের হিসাব
শুধু মোট বেতন নির্ধারণ নয়, কর্মচারীর হাতে প্রকৃতপক্ষে কত টাকা থাকবে, সেটিও হিসাব করার ব্যবস্থা রয়েছে।
এতে ভবিষ্য তহবিল বা জিপিএফ, কল্যাণ তহবিল, আয়কর, গ্যাস বিল, গ্রুপ বীমা এবং অন্যান্য কর্তনের তথ্য যুক্ত করা যাবে।
ভবিষ্য তহবিলের ক্ষেত্রে মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশ এবং অন্যান্য কর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট টাকার অঙ্ক দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এর ফলে মোট বেতন থেকে সব ধরনের কর্তন বাদ দিয়ে নীট বেতন নির্ণয় করা সম্ভব হবে।
অর্থাৎ একজন কর্মচারী শুধু নতুন মূল বেতনই নয়, বরং ভাতাসহ মোট বেতন এবং কর্তন শেষে সম্ভাব্য হাতে পাওয়া বেতনের হিসাবও দেখতে পারবেন।
মাসিক স্যালারি শিট তৈরির বিশেষ সুবিধা
জেনারেটরটির সবচেয়ে কার্যকর অংশগুলোর একটি হচ্ছে মাসিক স্যালারি শিট।
এখানে জুলাই ২০২৬ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ মাস পর্যন্ত বেতনের হিসাব তৈরি করার ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যবহারকারী কত মাসের হিসাব দেখতে চান, সেটি নির্বাচন করতে পারবেন।
মাসিক স্যালারি শিটে থাকবে:
-
মাস ও বছর অনুযায়ী মূল বেতন।
-
প্রতিটি ভাতার পৃথক হিসাব।
-
মাসিক মোট বেতন।
-
বিভিন্ন খাতের কর্তন।
-
মোট কর্তনের পরিমাণ।
-
কর্তন শেষে নীট বেতন।
এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের জন্য মোট বেতন, মোট কর্তন এবং মোট নীট বেতনের সমষ্টিও প্রদর্শিত হবে।
এটি বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বেতন পরিকল্পনা, সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং বিভিন্ন সময়ের বেতন তুলনার ক্ষেত্রে।
তবে জেনারেটরে উৎসব ভাতা ও বকেয়া বেতন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে ১ জুলাই ২০২৮-এর পরবর্তী বার্ষিক ইনক্রিমেন্টও এতে বিবেচনা করা হয়নি।
প্রিন্ট ও PDF তৈরির সুবিধা
বেতন বিবরণী তৈরি হওয়ার পর সেটি প্রিন্ট অথবা PDF আকারে সংরক্ষণের সুবিধা রাখা হয়েছে।
এতে কর্মচারীর নাম, পদবি, অফিসের নাম, ভেরিফিকেশন নম্বর, বেতন নির্ধারণের ধাপ, তারিখভিত্তিক মূল বেতন, মোট বেতন ও নীট বেতনের তথ্য প্রদর্শিত হবে।
মাসিক স্যালারি শিটের জন্য আলাদা প্রিন্ট সুবিধাও রয়েছে। ফলে একাধিক মাসের বেতন বিবরণী একসঙ্গে সংরক্ষণ করা সম্ভব।
বিশ্লেষণে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা ও সতর্কতা
জেনারেটরটির কাঠামো বিশ্লেষণ করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পাওয়া গেছে, যেগুলো ব্যবহারকারীদের জানা প্রয়োজন।
প্রথমত, সব গ্রেডের বেতন ধাপ সমানভাবে যাচাই করা হয়নি। কোডে গ্রেড-১৬-এর পুরোনো স্কেলের জন্য নির্দিষ্ট ধাপের তালিকা দেওয়া হয়েছে। অন্য গ্রেডের পুরোনো ধাপগুলো ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের সূত্রে তৈরি করার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে প্রকৃত গেজেটের সঙ্গে প্রতিটি ধাপ মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
দ্বিতীয়ত, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতার হার পরিবর্তনযোগ্য। জেনারেটরের মধ্যেই এগুলোকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই কোনো কর্মচারীর প্রকৃত প্রাপ্যতা নির্ধারণে সরকারি আদেশ অনুসরণ করতে হবে।
তৃতীয়ত, বেতন বৃদ্ধির ধাপগুলোতে যাচাই প্রয়োজন। বিশেষ করে বিভিন্ন তারিখে নির্ধারিত বেতন ও ইনক্রিমেন্টের হিসাব সংশ্লিষ্ট গেজেট এবং অনুমোদিত পে-ফিক্সেশন পদ্ধতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত।
চতুর্থত, বেতন বিবরণীর একটি গণনাগত অসংগতি সংশোধন করা প্রয়োজন। ১ জুলাই ২০২৭ তারিখে অবশিষ্ট বেতন বৃদ্ধির হার দেখানোর অংশে প্রদর্শিত অঙ্কের সূত্র এবং প্রকৃত গণনার সূত্রের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত ব্যবহারের আগে সফটওয়্যারের কোড যাচাই ও সংশোধন করা প্রয়োজন।
সুতরাং এটি একটি সম্ভাব্য বেতন হিসাব ও বিবরণী তৈরির সহায়ক টুল। সরকারি অনুমোদিত পে-ফিকেশন, হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাই অথবা চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণী আদেশের বিকল্প নয়।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য কতটা কার্যকর হতে পারে?
জাতীয় বেতনস্কেল পরিবর্তনের সময় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ থাকে নতুন মূল বেতন, বাড়িভাড়া, ইনক্রিমেন্ট, মোট বেতন এবং নীট বেতন কত হবে তা জানার বিষয়ে।
বিশেষ করে একই গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যেও চাকরিতে যোগদানের সময়, পূর্ববর্তী ইনক্রিমেন্ট, মূল বেতন এবং অন্যান্য প্রাপ্যতার কারণে বেতনের পার্থক্য থাকতে পারে।
এ কারণে শুধু গ্রেড নির্বাচন করে সবার জন্য একই বেতন দেখানোর পরিবর্তে ব্যক্তিগত মূল বেতন ও চাকরির তথ্যের ভিত্তিতে হিসাব করার পদ্ধতি বেশি কার্যকর।
আলোচ্য জেনারেটরটি সেই প্রয়োজনকে সামনে রেখে তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মচারীরা সম্ভাব্য বেতন কাঠামো সম্পর্কে ধারণা পেতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য এক জায়গায় সাজিয়ে রাখতে পারবেন।
শেষ কথা
জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সঠিক মূল বেতন, সঠিক গ্রেড, অনুমোদিত ধাপ এবং প্রযোজ্য ভাতার হার নির্ধারণ করা।
আলোচ্য বেতন বিবরণী জেনারেটরটি এসব তথ্য একত্র করে বেতন হিসাব, মাসিক স্যালারি শিট এবং PDF বিবরণী তৈরির একটি সমন্বিত ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে।
তবে সফটওয়্যারে প্রদর্শিত কোনো হিসাবকে চূড়ান্ত বেতন হিসেবে বিবেচনা করার আগে সংশ্লিষ্ট জাতীয় বেতনস্কেলের মূল গেজেট, সরকারি আদেশ এবং হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অনুমোদনের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া আবশ্যক।

মন্তব্য (০)