এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি: সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি, আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে উদ্বেগ
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দর অনুযায়ী প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৫৩ টাকা ১২ পয়সা ধরে ১২ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। ফলে নির্ধারিত দরের তুলনায় বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির চুক্তিমূল্য বৃদ্ধির তথ্যও সামনে এসেছে। সৌদি আরামকোর প্রোপেন ও বিউটেনের মূল্যবৃদ্ধি এবং আলজেরিয়ার সোনাত্রাকের দাম বাড়ানোর খবর বাংলাদেশের এলপিজি বাজারের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেশের খুচরা বাজারে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে বিইআরসির পরবর্তী মূল্য নির্ধারণ, আমদানি ব্যয় এবং বাজার পরিস্থিতির ওপর।
১২ কেজির সিলিন্ডারে দামের বড় ব্যবধান
এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নিয়ে ভোক্তাদের প্রধান অভিযোগ হলো সরকারি নির্ধারিত মূল্য ও বাজারে বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ব্যবধান। সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হলে নির্ধারিত দরের তুলনায় অতিরিক্ত ৪৬৩ থেকে ৬৬৩ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হতে পারে।
অর্থাৎ, কোনো ভোক্তাকে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে ২ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হলে সরকারি নির্ধারিত দরের তুলনায় তাঁর অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৬৬৩ টাকা। একইভাবে, মাসে দুটি সিলিন্ডার কিনলে অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে প্রায় ৯২৬ থেকে ১ হাজার ৩২৬ টাকা।
তবে এই হিসাব সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। দেশের সব এলাকায় একই দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো অঞ্চলভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ বাজারতথ্য এখানে নেই।
সরকারি নির্ধারিত দাম কত?
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১৫৩ টাকা ১২ পয়সা ধরে বিভিন্ন ওজনের সিলিন্ডারের আনুমানিক মূল্য নিচে দেওয়া হলো।
| সিলিন্ডারের ওজন | আনুপাতিক সরকারি মূল্য |
|---|---|
| ৫ কেজি | ৭৬৬ টাকা |
| ৫.৫ কেজি | ৮৪২ টাকা |
| ১২ কেজি | ১,৮৩৭ টাকা |
| ১২.৫ কেজি | ১,৯১৪ টাকা |
| ১৫ কেজি | ২,২৯৭ টাকা |
| ১৬ কেজি | ২,৪৫০ টাকা |
| ১৮ কেজি | ২,৭৫৬ টাকা |
| ২০ কেজি | ৩,০৬২ টাকা |
| ২২ কেজি | ৩,৩৬৯ টাকা |
| ২৫ কেজি | ৩,৮২৮ টাকা |
| ৩০ কেজি | ৪,৫৯৪ টাকা |
| ৩৩ কেজি | ৫,০৫৩ টাকা |
| ৩৫ কেজি | ৫,৩৫৯ টাকা |
| ৪৫ কেজি | ৬,৮৯০ টাকা |
গুরুত্বপূর্ণ: সারণির মূল্যগুলো প্রতি কেজির উল্লিখিত দর থেকে গাণিতিকভাবে হিসাব করা হয়েছে। এগুলো আলাদা করে যাচাই করা সরকারি মূল্যতালিকা নয়। বিশেষ করে সরকারি কোম্পানির সিলিন্ডার এবং বেসরকারি এলপিজির মূল্য নির্ধারণে পার্থক্য থাকতে পারে। সিলিন্ডার কেনার আগে সংশ্লিষ্ট মাসের বিইআরসির আনুষ্ঠানিক মূল্য ঘোষণা যাচাই করা উচিত।
সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের দামের তথ্য কী বলছে?
সরবরাহ করা তথ্যের সঙ্গে যুক্ত সংবাদ প্রতিবেদনগুলোর সারাংশে এলপিজির দামে বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তনের কথা উল্লেখ রয়েছে।
প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনের সারাংশে বলা হয়েছে, ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হয়েছিল। অন্যদিকে যুগান্তরের একটি প্রতিবেদনের সারাংশে সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৯৮ টাকা থেকে কমে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। মে মাসে দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকায় অপরিবর্তিত রাখার খবরও ফাইলটিতে সংরক্ষিত রয়েছে।
এই তথ্যগুলোতে বিভিন্ন সময়ের মূল্য পরিবর্তনের উল্লেখ থাকলেও প্রতিটি ঘোষণার কার্যকর তারিখ এবং পরবর্তী সংশোধনের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ একসঙ্গে নেই। তাই এসব মূল্যকে ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের নিশ্চিত সরকারি দর হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বুঝতে সংশ্লিষ্ট মাসের সর্বশেষ বিইআরসি বিজ্ঞপ্তি এবং স্থানীয় বিক্রেতাদের কাছ থেকে পাওয়া মূল্য যাচাই করা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম বাড়ছে
এলপিজির আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের চুক্তিমূল্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর এলপিজি বাজারে আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি হলে আমদানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
সরবরাহ করা তথ্যের আন্তর্জাতিক মূল্যতালিকায় সৌদি আরামকোর চুক্তিমূল্যের জন্য তিন মাসের হিসাব দেওয়া হয়েছে।
| মাস | প্রোপেনের মূল্য (ডলার/টন) | বিউটেনের মূল্য (ডলার/টন) |
|---|---|---|
| সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৬২৫ | ৬৬০ |
| অক্টোবর ২০২৬ | ৬৮০ | ৭৩০ |
| নভেম্বর ২০২৬ | ৭২০ | ৭৮০ |
তবে নভেম্বরের প্রোপেনের মূল্য ৭২০ ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকলেও বিউটেনের ৭৮০ ডলারের অঙ্কটি সরবরাহ করা ফাইলের ভাষ্য অনুযায়ী আনুমানিক হিসাব। তাই উভয় মূল্যকে সমান মাত্রায় যাচাইকৃত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
তালিকার হিসাবে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রোপেনের মূল্য প্রতি টনে ৯৫ ডলার এবং বিউটেনের মূল্য ১২০ ডলার বেড়েছে। শতাংশের হিসাবে প্রোপেনের বৃদ্ধি প্রায় ১৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং বিউটেনের বৃদ্ধি প্রায় ১৮ দশমিক ২ শতাংশ।
অবশ্য আন্তর্জাতিক চুক্তিমূল্যের এই পরিবর্তন সরাসরি একই হারে বাংলাদেশের খুচরা মূল্য বাড়াবে, এমন নয়। আমদানি ব্যয় ছাড়াও পরিবহন, মজুত, বোতলজাতকরণ, বিতরণ, কর এবং অন্যান্য খরচের বিষয় রয়েছে।
সোনাত্রাকের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কতটা?
ফাইলটিতে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সোনাত্রাকের এলপিজি মূল্যবৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি অক্টোবরে প্রোপেনের মূল্য ৬৭০ ডলার এবং বিউটেনের মূল্য ৭৫০ ডলার নির্ধারণ করেছিল। নভেম্বরে মূল্য ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে ব্যবসায়ীদের বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে।
তবে এই মূল্যবৃদ্ধির নির্দিষ্ট পণ্যভিত্তিক হিসাব, কার্যকর তারিখ এবং মূল ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সরবরাহ করা তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ফলে এই অংশকে প্রাথমিক তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক বাজারে একাধিক সরবরাহকারীর দাম বাড়লে আমদানিকারকদের ক্রয়ব্যয় বাড়তে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণের জন্য আমদানির উৎস, চুক্তির ধরন, মজুত এবং সংশ্লিষ্ট মাসের মূল্য সমন্বয়ের তথ্য প্রয়োজন।
বিইআরসির মূল্য নির্ধারণ ও বাজার নিয়ন্ত্রণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশে এলপিজির দাম নির্ধারণে বিইআরসির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী পণ্য বিক্রি হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা এবং ভোক্তাদের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া বাজার ব্যবস্থাপনার অংশ।
সরবরাহ করা ফাইলে কমিশনের মূল্য ও বাজারে প্রচলিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ব্যবধানের পাশাপাশি এলপিজির দাম এবং কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানির একটি সংবাদও উল্লেখ রয়েছে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পায়:
- সর্বশেষ মূল্য ঘোষণা: সংশ্লিষ্ট মাসে বিইআরসি কত দাম নির্ধারণ করেছে, তা স্পষ্টভাবে জানানো।
- বাজার পর্যবেক্ষণ: বিভিন্ন এলাকায় সিলিন্ডার কোন দামে বিক্রি হচ্ছে, তার তথ্য সংগ্রহ করা।
- ভোক্তার অভিযোগ: নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি মূল্য নেওয়ার অভিযোগ যাচাই করা।
- মূল্যতথ্যের স্বচ্ছতা: আন্তর্জাতিক মূল্য, আমদানি ব্যয় এবং খুচরা মূল্যের সম্পর্ক সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ করা।
এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারি মূল্য এবং বাজারে প্রকৃত বিক্রয়মূল্যের পার্থক্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব।
সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় কতটা বাড়তে পারে?
এলপিজির দাম পরিবারের মাসিক ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে যেসব পরিবার রান্নার জন্য সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পারিবারিক বাজেটে প্রভাব ফেলতে পারে।
ধরা যাক, একটি পরিবার মাসে একটি ১২ কেজির সিলিন্ডার ব্যবহার করে। বাজারে দাম ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা হলে মাসিক ব্যয় দাঁড়াবে ওই পরিমাণ। অন্যদিকে, প্রতি কেজি ১৫৩ টাকা ১২ পয়সা ধরে আনুপাতিক সরকারি মূল্য প্রায় ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।
এই দুই হিসাবের ব্যবধান মাসে ৪৬৩ থেকে ৬৬৩ টাকা। বছরে একই ব্যবধান বজায় থাকলে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ হতে পারে প্রায় ৫ হাজার ৫৫৬ থেকে ৭ হাজার ৯৫৬ টাকা।
তবে এটি একটি উদাহরণভিত্তিক হিসাব। প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করবে পরিবারের গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণ, স্থানীয় বাজারদর এবং ভবিষ্যতে মূল্য পরিবর্তনের ওপর।
সিলিন্ডার কেনার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
ভোক্তাদের জন্য কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি।
প্রথমত, সিলিন্ডার কেনার আগে সংশ্লিষ্ট মাসের সরকারি নির্ধারিত মূল্য যাচাই করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিক্রেতার কাছে মূল্য সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য চাইতে হবে। তৃতীয়ত, একই এলাকার একাধিক বিক্রেতার দাম তুলনা করলে বাজারদর সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
এ ছাড়া সিলিন্ডার কেনার সময় অনুমোদিত ও নির্ভরযোগ্য বিক্রেতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। শুধু কম দামের ভিত্তিতে নিম্নমানের বা অনিরাপদ সিলিন্ডার কেনা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
নভেম্বর মাসে এলপিজির দাম বাড়বে কি?
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের মূল্যবৃদ্ধির তথ্য থাকলেও বাংলাদেশে নভেম্বর মাসে এলপিজির সরকারি দাম বাড়বে কি না, তা নিশ্চিত করে বলার মতো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সরবরাহ করা ফাইলে নেই।
সাধারণভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্য পরিবর্তন দেশের মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। তবে চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণের জন্য বিইআরসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রয়োজন।
তাই আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধির খবরের ভিত্তিতে দেশের বাজারে দাম নিশ্চিতভাবে বাড়ছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। একইভাবে সরকারি মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে, এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
শেষ কথা
বাংলাদেশের এলপিজি বাজারে বর্তমানে দুটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—সরকারি নির্ধারিত দরের সঙ্গে খুচরা বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের মূল্য পরিবর্তন। সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, ১২ কেজির সিলিন্ডারের বাজারদর ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা প্রতি কেজি ১৫৩ টাকা ১২ পয়সা ধরে হিসাব করা আনুপাতিক সরকারি মূল্যের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
তবে এই বাজারদরের পরিসর দেশব্যাপী যাচাইকৃত জরিপের ফল নয় এবং আন্তর্জাতিক মূল্যতথ্যের কিছু অংশও আনুমানিক। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিইআরসির সর্বশেষ মূল্য ঘোষণা, নির্ভরযোগ্য বাজারতথ্য এবং আন্তর্জাতিক মূল্যসংক্রান্ত মূল প্রতিবেদন যাচাই করা প্রয়োজন।
ভোক্তাদের প্রত্যাশা, এলপিজির সরকারি মূল্য ও বাজারে প্রকৃত বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ব্যবধান কমাতে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সময়মতো প্রকাশ করা হবে।

মন্তব্য (০)