নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে পটুয়াখালীতে প্রতিনিধি সমাবেশের ঘোষণা
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে পটুয়াখালীতে প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনা সভার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, পটুয়াখালী জেলা শাখার ব্যানারে এ কর্মসূচি আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে।
প্রচারপত্রে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দরবার হলে প্রতিনিধি সমাবেশটি আয়োজনের কথা রয়েছে। এতে নতুন জাতীয় পে-স্কেল দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবিকে সামনে রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশা তুলে ধরা হবে।
প্রচারপত্রে যা বলা হয়েছে
প্রচারপত্র অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জনাব আব্দুল মালেকের। প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব জনাব আশিকুল ইসলাম।
সভাপতিত্ব করবেন পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মু. শাহাবুদ্দিন মুন্সী। এছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতা এবং জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পটুয়াখালীতে এর আগেও নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে প্রতিনিধি সমাবেশ হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে একই সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রেখে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানানো হয়েছিল।
কেন আবার কর্মসূচিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা?
নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ও প্রত্যাশা রয়েছে। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত না হওয়ায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে বর্তমান আয়ের ব্যবধান বেড়েছে।
গত ৭ আগস্ট সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে আগস্টের মধ্যেই নবম পে-স্কেলের গেজেট জারির দাবি জানানো হয়। সে সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
এদিকে ১৫ আগস্ট সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে সম্ভাব্য নতুন পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংগঠনটি বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের দাবি জানায়।
পটুয়াখালীর সমাবেশে কী গুরুত্ব পাচ্ছে?
প্রচারপত্র অনুযায়ী, পটুয়াখালীর এই প্রতিনিধি সমাবেশে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে—
- নবম জাতীয় পে-স্কেলের দ্রুত বাস্তবায়ন
- সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্থনৈতিক চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয়
- পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কর্মচারীদের প্রত্যাশা
সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলোর দাবি, নতুন বেতন কাঠামো শুধু বেতন বৃদ্ধির বিষয় নয়; বর্তমান বাজারদর, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়সহ সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের আয়ের সামঞ্জস্যও গুরুত্বপূর্ণ।
তারিখ নিয়ে প্রচারপত্রে অসঙ্গতি
তবে প্রচারপত্রের তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে নজরে এসেছে। সেখানে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-কে শুক্রবার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার। ফলে অনুষ্ঠানের নির্ধারিত তারিখ অথবা বারের তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
কর্মচারীদের চোখ এখন প্রজ্ঞাপনের দিকে
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে গেজেট প্রকাশ, বেতন কাঠামো এবং সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
পটুয়াখালীর প্রতিনিধি সমাবেশ সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতারই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নতুন পে-স্কেল কবে চূড়ান্ত হবে, কবে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং কী বেতন কাঠামো অনুমোদন পাবে—এসব বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী।
উল্লেখ্য, প্রচারপত্রে উল্লিখিত কর্মসূচির সময় ও তারিখের তথ্য সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে নেওয়া প্রয়োজন।

