BRTA Information

ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স ২০২৬: এখন কি হার্ড কপি ছাড়াই গাড়ি চালানো যাবে? যা জানাল বিআরটিএ

ডিজিটাল সেবার বিস্তারের সঙ্গে বাংলাদেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন চালকের স্মার্টফোনে থাকা ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স (E-Driving Licence) QR কোডের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব। ফলে লাইসেন্সধারীদের জন্য সব সময় প্লাস্টিকের স্মার্টকার্ড বহনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে—শুধু মোবাইলে ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেই কি হার্ড কপি ছাড়াই আইনগতভাবে গাড়ি চালানো যাবে? ২০২৬ সালের বর্তমান তথ্য বিশ্লেষণ করলে এর উত্তর কিছুটা পরিষ্কার হয়।

ই-লাইসেন্সকে স্বীকৃতি দিয়েছে বিআরটিএ

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA) ২০২৪ সালে ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। স্মার্টফোনে সংরক্ষণ করা এই ডিজিটাল লাইসেন্সে একটি QR কোড থাকে। QR কোড স্ক্যান করে চালকের লাইসেন্স-সংক্রান্ত তথ্য বিআরটিএর ডাটাবেজ থেকে যাচাই করা যায়।

অর্থাৎ, ই-লাইসেন্স কেবল একটি সাধারণ ছবি বা স্ক্রিনশট নয়। এটি বিআরটিএর সিস্টেমে তৈরি ও যাচাইযোগ্য একটি ডিজিটাল ডকুমেন্ট।

বর্তমানে বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টালেও E-Driving License Verification ব্যবস্থা চালু রয়েছে। পোর্টালে QR কোড স্ক্যান করে অথবা ই-লাইসেন্সের PDF/ছবি আপলোড করে সার্টিফিকেটের তথ্য যাচাই করা যায়।

তাহলে কি হার্ড কপি সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক নয়?

এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বিআরটিএর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ই-লাইসেন্স স্মার্টফোনে বহন করা যায় এবং QR কোডের মাধ্যমে তা যাচাই করা সম্ভব। ২০২৪ সালে বিআরটিএর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, স্মার্টফোনে থাকা ই-লাইসেন্স ব্যবহার করা যাবে এবং এটি বিভিন্ন সরকারি কাজে গ্রহণযোগ্য।

তবে ২০২৬ সালে এমন কোনো নতুন বিআরটিএ নির্দেশনা পাওয়া যায়নি যেখানে বলা হয়েছে যে সব পরিস্থিতিতে স্মার্টকার্ড/হার্ড কপি সম্পূর্ণ বাতিল বা সঙ্গে রাখা নিষিদ্ধ। বরং বিআরটিএর বর্তমান সার্ভিস পোর্টালে একই সঙ্গে স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ই-লাইসেন্স—দুই ধরনের সেবাই দেখা যাচ্ছে।

তাই বিষয়টি এভাবে বোঝা বেশি সঠিক—ই-লাইসেন্স বৈধ ও যাচাইযোগ্য ডিজিটাল বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়; কিন্তু হার্ড কপি সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় হয়ে গেছে—এমন ঘোষণা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

QR কোডই ই-লাইসেন্সের মূল শক্তি

ই-ড্রাইভিং লাইসেন্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর QR কোড।

বিআরটিএর বর্তমান QR Scanner-এ E-Tax Token, E-Driving License এবং E-Fitness যাচাই করা যায়। ব্যবহারকারী QR কোড স্ক্যান করতে পারেন অথবা সংশ্লিষ্ট PDF/ছবি আপলোড করে তথ্য যাচাই করতে পারেন।

এর ফলে কোনো চালক মোবাইলে ই-লাইসেন্স দেখালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ QR কোডের মাধ্যমে লাইসেন্সের তথ্য যাচাই করতে পারে।

বিআরটিএর কিছু ই-লাইসেন্স সংক্রান্ত পেজেও ব্যবহারকারীকে ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স পুনরায় BSP থেকে ডাউনলোড করে BSP-এর QR Scanner অথবা BRTA Sheba অ্যাপের মাধ্যমে QR Code স্ক্যান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শুধু স্ক্রিনশট রাখলে হবে না

এখানে চালকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে।

মোবাইলে ই-লাইসেন্সের সঠিক PDF বা অফিসিয়াল ডিজিটাল কপি রাখা উচিত। শুধু QR কোডের ছবি, সম্পাদিত ছবি বা অস্পষ্ট স্ক্রিনশটের ওপর নির্ভর করা নিরাপদ নয়।

কারণ ই-লাইসেন্সের মূল উদ্দেশ্য হলো QR কোড স্ক্যান করে বিআরটিএর তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা। তাই লাইসেন্সের তথ্য, নাম, লাইসেন্স নম্বর, মেয়াদ এবং QR কোড পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান থাকা জরুরি।

ইন্টারনেট না থাকলে কী হবে?

ই-লাইসেন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরেকটি বাস্তব বিষয় হলো মোবাইল ফোন।

ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে, ফোন নষ্ট হলে বা লাইসেন্সের কপি ফোনে খুঁজে না পাওয়া গেলে চালক সমস্যায় পড়তে পারেন। QR যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিস্টেম বা সংযোগের প্রয়োজনও হতে পারে।

তাই ই-লাইসেন্সকে প্রধান ডিজিটাল কপি হিসেবে ফোনে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে হার্ড কপিও নিরাপদে রাখা বাস্তবিক দিক থেকে সুবিধাজনক।

অনলাইনেই ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই করা যায়

বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টালে আলাদা Driving License Verification ব্যবস্থাও রয়েছে। সেখানে ড্রাইভিং লাইসেন্সের রেফারেন্স নম্বর, প্রথম ইস্যুর তারিখ এবং নিরাপত্তা কোড ব্যবহার করে তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

অর্থাৎ, ড্রাইভিং লাইসেন্স এখন কেবল একটি প্লাস্টিক কার্ডের ওপর নির্ভরশীল নয়; এর তথ্য বিআরটিএর ডিজিটাল সিস্টেমেও সংরক্ষিত ও যাচাইযোগ্য।

যেভাবে ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই করবেন

চালক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চাইলে—

১. বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে প্রবেশ করতে পারবেন।
২. E-License/QR Verification অপশন নির্বাচন করতে পারবেন।
৩. ই-লাইসেন্সের QR কোড স্ক্যান করতে পারবেন।
৪. প্রয়োজনে লাইসেন্সের PDF বা ছবি আপলোড করেও যাচাই করতে পারবেন।
৫. আলাদাভাবে Driving License Verification ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়েও যাচাই করা যায়।

হার্ড কপি হারিয়ে গেলে কি লাইসেন্স বাতিল হবে?

না—শুধু স্মার্টকার্ড হারিয়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে চালকের লাইসেন্সের অস্তিত্ব শেষ হয়ে গেছে। বিআরটিএর সিস্টেমে লাইসেন্সের তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে এবং ডুপ্লিকেট লাইসেন্সের জন্যও আলাদা প্রক্রিয়া রয়েছে। বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টালে ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্সের সেবাও উল্লেখ করা হয়েছে।

চালকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

২০২৬ সালে ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবস্থায় ডিজিটাল সুবিধা এখন বাস্তব। মোবাইলে থাকা বিআরটিএ-উৎপাদিত ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স QR কোডের মাধ্যমে যাচাই করা যায়। তাই ই-লাইসেন্সকে গুরুত্বহীন কোনো বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তবে একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, ই-লাইসেন্স চালু হয়েছে মানেই স্মার্টকার্ড/হার্ড কপি সম্পূর্ণ বাতিল হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের বর্তমান বিআরটিএ তথ্য থেকে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বিআরটিএর বর্তমান পোর্টাল এখনো স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা পরিচালনা করছে।

শেষ কথা

ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স এখন বৈধ ও QR-কোডভিত্তিক যাচাইযোগ্য ডিজিটাল ডকুমেন্ট। স্মার্টফোনে সেটি সংরক্ষণ করে প্রয়োজনের সময় প্রদর্শন করা যায় এবং বিআরটিএর সিস্টেম থেকে এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। কিন্তু “২০২৬ থেকে হার্ড কপি আর কোনোভাবেই প্রয়োজন নেই”—এমন সার্বজনীন ঘোষণা হিসেবে বিষয়টি প্রচার করা ঠিক হবে না।

তাই চালকদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো—ফোনে ই-ড্রাইভিং লাইসেন্সের অফিসিয়াল কপি রাখুন, QR কোড সচল আছে কি না নিশ্চিত করুন এবং হার্ড কপি থাকলে সেটিও সংরক্ষণ করুন। এতে ডিজিটাল ও প্রচলিত—দুই ব্যবস্থার সুবিধাই পাওয়া যাবে।

বিআরটিএর অফিসিয়াল সার্ভিস পোর্টাল: BRTA Service Portal
ই-লাইসেন্স QR যাচাই: BRTA QR Scanner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *