ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক, তবে থাকছে কিছু ব্যতিক্রম
দেশে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) দাখিলের বিধান আরও স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থ আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬৪-এ নতুন একটি বিধান সংযোজন করে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন আইনের আওতায় শিক্ষার্থী ও বিশেষ কিছু হিসাব ছাড়া প্রায় সব ধরনের ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন নম্বর দাখিল বাধ্যতামূলক হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কর ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই বিধান কার্যকর করা হয়েছে।
কী বলা হয়েছে নতুন আইনে?
অর্থ আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬৪-এ নতুন দফা (১৩) সংযোজন করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, Student Account, No-Frills Account এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক সরকারি গেজেটের মাধ্যমে অব্যাহতি প্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য যেকোনো ধরনের ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন দাখিল বাধ্যতামূলক হবে।
ফলে একজন ব্যক্তি নতুন ব্যাংক হিসাব খুলতে চাইলে তাকে প্রথমেই টিআইএন নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে সেই নম্বর জমা দিতে হবে।
যেসব হিসাব খুলতে টিআইএন লাগবে
নতুন বিধান অনুযায়ী সাধারণভাবে নিচের হিসাবগুলো খুলতে টিআইএন প্রয়োজন হবে—
- সেভিংস (Savings) অ্যাকাউন্ট
- কারেন্ট (Current) অ্যাকাউন্ট
- ব্যবসায়িক (Business) অ্যাকাউন্ট
- জয়েন্ট (Joint) অ্যাকাউন্ট
- এফডিআর (FDR) বা মেয়াদি আমানত হিসাব
- অন্যান্য সাধারণ ব্যাংক হিসাব
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন হিসাব খোলার আবেদন গ্রহণের সময় গ্রাহকের টিআইএন তথ্য যাচাই করা হবে। এতে আর্থিক লেনদেনের তথ্য কর প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা সহজ হবে।
যেসব ক্ষেত্রে টিআইএন প্রয়োজন হবে না
তবে সব ধরনের হিসাবের ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য হচ্ছে না। আইনে তিনটি ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছে—
- স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট (Student Account)
- নো-ফ্রিলস অ্যাকাউন্ট (No-Frills Account)
- এনবিআর কর্তৃক সরকারি গেজেটের মাধ্যমে অব্যাহতি প্রাপ্ত ব্যক্তি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার্থী ও নিম্ন আয়ের মানুষের ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করার জন্যই এসব হিসাবকে টিআইএন বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখা হয়েছে।
করজাল সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ
অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে টিআইএন সংযুক্ত করার ফলে করজাল সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অনেক ব্যক্তি ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করলেও কর নিবন্ধনের আওতায় আসেন না। নতুন বিধানের ফলে তাদের একটি বড় অংশ কর প্রশাসনের ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হবে।
একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব, আমানত, বিনিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য আরও সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাগরিকদের করণীয়
নতুন বিধান কার্যকর হওয়ার পর যারা নতুন সেভিংস, কারেন্ট বা অন্য সাধারণ ব্যাংক হিসাব খুলতে চান, তাদের আগে অনলাইনে বা এনবিআরের নির্ধারিত পদ্ধতিতে টিআইএন নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় ব্যাংক হিসাব খোলার আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ দেশের কর ব্যবস্থাকে আরও ডিজিটাল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

