মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক পাস, প্রবিধানমালা জারি
দেশের বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে স্নাতক (ডিগ্রি) বা সমমানের পাস ছাড়া কোনো ব্যক্তি বেসরকারি মাদ্রাসার (দাখিল ও আলিম স্তরের) ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি হতে পারবেন না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত প্রবিধানমালা ও সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠু পরিচালনা এবং গুণগত মান নিশ্চিত করতে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদের জন্য এই ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রবিধানমালার গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ:
১. ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্কুল ও উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের পাশাপাশি দাখিল ও আলিম মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতি পদের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি। স্নাতক অনুত্তীর্ণ কোনো ব্যক্তি এই পদে মনোনীত বা নির্বাচিত হতে পারবেন না।
২. অ্যাডহক কমিটির সভাপতি: মাদ্রাসার নিয়মিত কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত যে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়, তার সভাপতির সাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতার বেসলাইনও হবে স্নাতক পাস। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে শিক্ষার প্রসার বা উন্নয়নে বিশেষ অবদানের বিষয়টি বিবেচনা করে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
৩. একই প্রতিষ্ঠানে দুই বারের বেশি নয়: নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি একই মাদ্রাসার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিতে পরপর দুই বারের বেশি সভাপতি মনোনীত হতে পারবেন না। তবে এক মেয়াদ বিরতি দিয়ে তিনি পুনরায় এই পদের জন্য বিবেচিত হতে পারবেন।
৪. একাধিক প্রতিষ্ঠানে সভাপতি পদের নিষেধাজ্ঞা: কোনো ব্যক্তি একই সময়ে একের অধিক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বা মাদ্রাসার গভর্নিং বডি/ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
যোগ্যতার ভিত্তিতে কমিটি গঠনের তাগিদ:
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, মাদ্রাসাসহ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চতর প্রশাসনিক স্তরে যোগ্য, দক্ষ এবং শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের নিয়ে আসতেই এই ‘বেসলাইন’ বা ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের সমাজসেবক, অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি—যারাই সভাপতি পদে আসবেন, তাদের অবশ্যই এই শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে।
এই প্রবিধানমালা জারির ফলে দেশের মাদ্রাসা শিক্ষার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা যেমন বাড়বে, তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের সভাপতি হওয়ার প্রবণতা বন্ধ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ইতিমধ্যে এই নতুন প্রবিধানমালা অনুসরণ করে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশনা জারি করেছে।

