হু হু করে বাড়ছে এলপিজির দাম: ১২ কেজি সিলিন্ডারে বাড়ল ২১২ টাকা
দেশের বাজারে আবারও বাড়ল ভোক্তা পর্যায়ের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর হচ্ছে।
এক নজরে এলপিজির নতুন দাম
বিইআরসি’র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এপ্রিলের শুরুতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৭২৮ টাকা। নতুন সমন্বয়ে তা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকায়। সরকারি এলপিজির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও বেসরকারি খাতের এলপিজির দামে এই বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে।
নিচে সিলিন্ডার ভেদে দামের পরিবর্তনের একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো:
| সিলিন্ডারের ধরণ | পূর্বের মূল্য (টাকা) | বর্তমান মূল্য (টাকা) | বৃদ্ধির পরিমাণ |
| ১২ কেজি সিলিন্ডার | ১,৭২৮ | ১,৯৪০ | ২১২ টাকা |
| অটোগ্যাস (প্রতি লিটার) | ৭৯.৭৭ | ৮৯.৫০ | ৯.৭৩ টাকা |
কেন এই দফায় দফায় দাম বৃদ্ধি?
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানিয়েছে, সৌদি আরামকোর সিপি (কন্ট্রাক্ট প্রাইস) অনুযায়ী প্রোপেন ও বিউটেনের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। আমদানিকারকদের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোক্তা পর্যায়ে এই সমন্বয় অনিবার্য হয়ে পড়েছে বলে দাবি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার।
পরিবহন খাতে অস্বস্তি: বেড়েছে অটোগ্যাসের দাম
রান্নার গ্যাসের পাশাপাশি পরিবহন খাতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। এপ্রিলের শুরুতে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ছিল ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা, যা এখন বাড়িয়ে ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে। এর ফলে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির পরিচালনা ব্যয় বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচের ওপর।
জনজীবনে প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
রমজান ও ঈদের পরবর্তী সময়ে হুট করে গ্যাসের এই দাম বৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যে নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়েছে। সাধারণ ভোক্তারা বলছেন, বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির মাঝে জ্বালানির এই আকাশচুম্বী দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
“এমনিতেই বাজারে সবকিছুর দাম বেশি, তার ওপর এক লাফে ২১২ টাকা বাড়ানো মানে রান্নার খরচ অনেক বেড়ে যাওয়া। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এটা সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।” — একজন ক্ষুব্ধ ভোক্তা।
বিইআরসি জানিয়েছে, বেসরকারি পর্যায়ে এলপিজির দাম নির্ধারিত হলেও খুচরা পর্যায়ে অনেকে এর চেয়েও বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি।

