নবম পে-স্কেল ২০২৬: পে-ফিক্সেশনে তথ্য সংশোধন, নতুন নিয়োগ ও পিআরএল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৬ প্রশ্নের ব্যাখ্যা
নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য সংশোধন করা যাবে কি না, আগের পে-ফিক্সেশনের তথ্যে ভুল থাকলে কী করতে হবে, কোন কর্তৃপক্ষ ফিক্সেশন ‘সেন্ড ব্যাক’ করতে পারবেন, নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের বেতন কখন নির্ধারণ হবে—এসব বিষয় নিয়ে চাকরিজীবীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে।
একই সঙ্গে প্রেষণে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) থাকা ব্যক্তিদের বেতন নির্ধারণ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের ক্ষেত্রে সাধারণ পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়া সরাসরি কার্যকর হচ্ছে না, তাঁরা পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন নির্ধারণের জন্য iBAS++-এর বিশেষ পে-ফিক্সেশন মডিউল ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৫ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এ কার্যক্রম সম্পন্ন করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীর ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই, আগের বেতন নির্ধারণের ইতিহাস এবং বিশেষ অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে প্রচারিত একটি প্রশ্নোত্তরভিত্তিক তথ্যে পে-ফিক্সেশনসংক্রান্ত ছয়টি বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব ব্যাখ্যার প্রতিটি বিষয় পৃথক সরকারি আদেশ দিয়ে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে নিচের আলোচনা প্রচারিত তথ্যের বিশ্লেষণ হিসেবে বিবেচ্য; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
১. পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার পরও কি পারিবারিক তথ্য সংশোধন করা যাবে?
পে-ফিক্সেশনসংক্রান্ত প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, পারিবারিক তথ্য পরবর্তী সময়ে আপডেট করা যাবে। ফলে ফিক্সেশনের সময় কোনো পারিবারিক তথ্য দিতে ভুল হলে বা পরে পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য সংশোধনের সুযোগ থাকতে পারে।
তবে পারিবারিক তথ্য সংশোধনের সুযোগ থাকা এবং পে-ফিক্সেশন মডিউলে যেকোনো সময় নিজে থেকে তথ্য পরিবর্তন করতে পারা এক বিষয় নয়। কোন তথ্য অনলাইনে সংশোধন করা যাবে, কোন ক্ষেত্রে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অনুমোদন লাগবে এবং সংশোধনের জন্য কী ধরনের নথি প্রয়োজন হবে—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট সিস্টেমের নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।
এ কারণে কর্মচারীদের প্রথমেই নিজেদের দেওয়া তথ্য যাচাই করতে হবে। কোনো ভুল শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট অফিসের প্রশাসন বা হিসাব শাখার মাধ্যমে সংশোধনের নিয়ম জেনে নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড এবং চাকরিসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে পারিবারিক তথ্যের কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে তা উপেক্ষা না করাই ভালো।
২. কোন ক্ষেত্রে পে-ফিক্সেশন ‘সেন্ড ব্যাক’ করা যাবে?
নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ‘Send Back’ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। সাধারণভাবে কোনো বিবরণীতে ভুল, অসম্পূর্ণ তথ্য কিংবা যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে সেটি সংশোধন বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আগের ধাপে ফেরত পাঠানোকে সেন্ড ব্যাক বলা হয়।
প্রচারিত প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী, সরকারি বাজেটের আওতাভুক্ত GoB Staff-এর ক্ষেত্রে DDO বা Drawing and Disbursing Officer পে-ফিক্সেশন সেন্ড ব্যাক করতে পারবেন। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট Accounts Office-এর মাধ্যমে SDO ও GoB Staff-এর ফিক্সেশনও সেন্ড ব্যাক করার সুযোগের কথা সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেন্ড ব্যাক করার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা অফিসের অনুমোদিত ভূমিকা এবং সিস্টেমে নির্ধারিত কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল। তাই কোনো কর্মচারী নিজে থেকে একটি ফিক্সেশন সেন্ড ব্যাক করতে পারবেন—এমন ধারণা করা ঠিক হবে না।
ফিক্সেশনে ভুল থাকলে প্রথমে ভুলের ধরন শনাক্ত করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট DDO অথবা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
কর্মচারীদের জন্য পরামর্শ: শুধু সেন্ড ব্যাক হয়েছে কি না, সেটি দেখলেই হবে না। কেন ফেরত পাঠানো হয়েছে, কোন তথ্য সংশোধন করতে হবে এবং সংশোধনের পর আবার কোন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে—সেটিও পরিষ্কারভাবে জেনে নিতে হবে।
৩. ২০১৫ সালের পে-ফিক্সেশনের Tab-4 ও Tab-5-এ ভুল থাকলে করণীয় কী?
পুরোনো জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী সম্পন্ন করা পে-ফিক্সেশনের তথ্য নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আগের ফিক্সেশনের Tab-4 ও Tab-5-এ ভুল থাকলে কিংবা পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের তথ্য মনে না থাকলে নতুন ফিক্সেশনে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
প্রচারিত প্রশ্নোত্তরে দাবি করা হয়েছে, পে-ফিক্সেশন-২০২৬ সম্পন্ন হওয়ার পরও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের মাধ্যমে আগের ফিক্সেশনের তথ্য সংশোধন করার সুযোগ থাকবে।
তবে এ ধরনের সংশোধন সব ক্ষেত্রে একইভাবে হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে যাঁরা চাকরিজীবনে পদোন্নতি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড কিংবা উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন, তাঁদের আগের বেতন নির্ধারণের ইতিহাস সঠিকভাবে উপস্থাপন করা জরুরি। এসব ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী অফিস আদেশ ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
৪ অক্টোবর পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে প্রকাশিত বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কর্মচারীদের আগের বেতন নির্ধারণের তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড এবং উচ্চতর গ্রেডসংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে।
সুতরাং পুরোনো তথ্য ভুল থাকলে অনুমানের ভিত্তিতে নতুন তথ্য দেওয়া উচিত নয়। সার্ভিস বুক, পূর্ববর্তী ফিক্সেশন বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশের সঙ্গে মিলিয়ে সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়াই নিরাপদ।
৪. ১ জুলাই ২০২৬ বা তার পরে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের বেতন কখন নির্ধারণ হবে?
নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের পে-ফিক্সেশনের বিষয়টি নিয়ে আলাদা প্রশ্ন রয়েছে। প্রচারিত প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, যাঁরা ১ জুলাই ২০২৬ অথবা তার পরে চাকরিতে যোগদান করেছেন, তাঁদের নবনিযুক্ত কর্মচারী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় ‘Fixation Eligibility’ অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত DDO-এর মাধ্যমে তাঁদের বেতন নির্ধারণ করা যাবে না।
এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য হলো, চাকরিতে যোগদান করলেই সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পে-ফিক্সেশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। নিয়োগের তথ্য, যোগদানের তারিখ, পদ, গ্রেড এবং সিস্টেমে প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এ ধরনের কর্মচারীদের নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র এবং পদ ও গ্রেডসংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা উচিত। ফিক্সেশন মডিউলে যোগ্যতা অনুমোদনের বিষয়টি আটকে থাকলে সংশ্লিষ্ট DDO বা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
তবে এখানে একটি সতর্কতা রয়েছে। নবনিযুক্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ‘Fixation Eligibility’ অনুমোদন বাধ্যতামূলক কি না এবং ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় তা সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে প্রচারিত প্রশ্নোত্তরের বাইরে পৃথক সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।
৫. প্রেষণে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ কবে হবে?
প্রেষণে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। প্রচারিত প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, এই শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য সিস্টেম প্রস্তুত হলে যথাসময়ে পরবর্তী আপডেট জানানো হবে।
প্রেষণে থাকা কর্মচারীদের চাকরির অবস্থান, মূল দপ্তর, প্রেষণসংক্রান্ত আদেশ এবং বেতন প্রদানের দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তরের তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে তাঁদের পে-ফিক্সেশন সাধারণ কর্মচারীদের প্রক্রিয়া থেকে আলাদা হতে পারে।
তবে প্রচারিত তথ্যে প্রেষণে কর্মরত কর্মচারীদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। সুতরাং তাঁদের বেতন নির্ধারণের কাজ কবে শুরু হবে বা কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত সময়সীমা ঘোষণা করা যাচ্ছে না।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের মূল দপ্তরের প্রশাসন শাখা, বেতন শাখা কিংবা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন। প্রেষণসংক্রান্ত আদেশ, বর্তমান পদায়ন এবং বেতন-সংক্রান্ত নথি হালনাগাদ রাখলে প্রয়োজনীয় যাচাই সহজ হতে পারে।
৬. পিআরএলে থাকা এবং পিআরএল শেষ হওয়া কর্মচারীদের বেতন কীভাবে নির্ধারণ হবে?
পিআরএল বা অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে পিআরএলে ছিলেন, যাঁদের পিআরএল ওই তারিখে বা তার পরে শেষ হয়েছে কিংবা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে কোন তারিখ ধরে বেতন নির্ধারণ করা হবে—এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
প্রচারিত প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, এ শ্রেণির কর্মচারীদের পিআরএল শেষ হওয়ার পর ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণের ব্যবস্থা করতে হবে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সিস্টেম প্রস্তুত হলে আপডেট জানানো হবে এবং এর আগে ফিক্সেশন করার চেষ্টা করলে তা বাতিল হয়ে যেতে পারে।
তবে এ বক্তব্যকে সব পিআরএলভুক্ত কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কর্মচারীর অবসরের তারিখ, পিআরএলের মেয়াদ, পেনশন-সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী করণীয় ভিন্ন হতে পারে।
এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত, নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকর তারিখ এবং দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর জন্য পে-ফিক্সেশন বা অবসর-সংশ্লিষ্ট হিসাব সম্পন্ন করার সময়। দুটি বিষয় এক নয়।
তাই পিআরএলে থাকা কর্মচারীরা নিজে থেকে বারবার ফিক্সেশন করার চেষ্টা না করে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে নির্দেশনা নেওয়া উচিত। পিআরএল শেষ হওয়ার তারিখ, অবসরের আদেশ এবং পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।
নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও যাঁদের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা কী করবেন?
নবম পে-স্কেল অনুযায়ী পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম ৫ অক্টোবর শুরু হয়ে ২০ অক্টোবরের মধ্যে সম্পন্ন করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২১ অক্টোবর প্রকাশিত ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়েছে এবং নতুন বেতন, আগের বেতনের পার্থক্য ও বকেয়ার হিসাব চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছিল।
অন্যদিকে, পে-ফিক্সেশনের তথ্য পাঠানো এবং প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ৪ অক্টোবর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও নিজস্ব দপ্তরের জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য চেয়ে নোটিশ প্রকাশ করেছিল।
এ কারণে যাঁদের ফিক্সেশন এখনো সম্পন্ন হয়নি বা তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের জন্য কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ:
প্রথমত, iBAS++-এ দেওয়া ব্যক্তিগত ও চাকরিসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, আগের বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডের তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ মিলিয়ে দেখতে হবে।
তৃতীয়ত, ফিক্সেশন আটকে থাকলে বা সেন্ড ব্যাক হলে সংশ্লিষ্ট DDO কিংবা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের মাধ্যমে কারণ জেনে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।
চতুর্থত, নবনিযুক্ত, প্রেষণে কর্মরত কিংবা পিআরএল-সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সাধারণ ফিক্সেশন প্রক্রিয়া সবার জন্য একইভাবে কার্যকর হবে—এমন ধারণা না করে নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
বকেয়া বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে কী বিষয় গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সঙ্গে বকেয়া পাওনার হিসাবও জড়িত। অর্থ বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদে অক্টোবরের নিয়মিত বেতনের সঙ্গে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় তিন মাসের বকেয়া দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। তবে প্রত্যেক কর্মচারীর বকেয়া একই হবে না; পুরোনো মূল বেতন, নতুন নির্ধারিত মূল বেতন এবং কার্যকর তারিখের ভিত্তিতে হিসাব ভিন্ন হবে।
পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন হলেও বকেয়ার প্রকৃত পরিমাণ যাচাই করা জরুরি। কোনো কর্মচারীর ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণ বা উচ্চতর গ্রেডের তথ্য ভুল থাকলে নতুন বেতন ও বকেয়ার হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে।
তাই নতুন বেতন বিবরণী পাওয়ার পর আগের মূল বেতন, নতুন মূল বেতন এবং প্রযোজ্য বকেয়ার হিসাব মিলিয়ে দেখা উচিত। কোনো অসংগতি থাকলে সংশ্লিষ্ট অফিসের বেতন শাখা বা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে জানাতে হবে।
শেষ কথা
নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী পে-ফিক্সেশনে শুধু নতুন মূল বেতন নির্ধারণই নয়, বরং ব্যক্তিগত তথ্যের সঠিকতা, আগের বেতন-ইতিহাস, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনও গুরুত্বপূর্ণ। পারিবারিক তথ্য সংশোধন, সেন্ড ব্যাক, পুরোনো ফিক্সেশনের ভুল, নবনিযুক্ত কর্মচারী, প্রেষণ এবং পিআরএল—প্রতিটি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।

