৯ম পে স্কেল নিউজ

সরকারি কর্মচারী বেতন স্কেলের ১১-২০ গ্রেড: বাড়িভাড়া বৈষম্য নিরসন ও নতুন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোতে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীরা সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি হলেও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি এই গ্রেডের কর্মচারীদের বাড়িভাড়া নির্ধারণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ১১ থেকে ২০ গ্রেডের মূল বেতনের ব্যবধান মাত্র ৫,০০০ টাকা হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান বাড়িভাড়া নীতিমালার কারণে এই বিশাল জনগোষ্ঠী আর্থিক সংকটের মুখে পড়ছেন।

বর্তমান ব্যবধান ও মূল সমস্যা

  • বেতন সীমার ব্যবধান: ১১তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডের মূল বেতনের বিস্তৃতি খুবই সীমিত। এই পুরো ধাপে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল বেতনের পার্থক্য মাত্র ৫,০০০ টাকার মতো।

  • বাড়িভাড়ার বৈষম্য: বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী গ্রেডভেদে বাড়িভাড়ার শতকরা হার এবং ন্যূনতম টাকার পরিমাণে আকাশচুম্বী তফাত দেখা যায়। সামান্য মূল বেতন বৃদ্ধির ফলে উচ্চতর গ্রেডে গিয়ে বাড়িভাড়ার পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় নিচের দিকের গ্রেডের কর্মচারীরা মারাত্মক পিছিয়ে পড়েন।

  • জীবনযাত্রার ব্যয়: বর্তমান বাজারদরে ঢাকা বা অন্যান্য শহরে এই সামান্য বেতনে বাড়িভাড়া পরিশোধ করে বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব। বিশেষ করে ১৬ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত বর্তমান বাড়িভাড়া বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী বাজারে অত্যন্ত অপ্রতুল।

বিশ্লেষকদের প্রস্তাবিত সমাধান

বিশেষজ্ঞ ও কর্মচারী সংগঠনের অভিমত হলো, ১১ থেকে ২০ গ্রেডকে আলাদা কোনো ধাপ হিসেবে না রেখে একটি একক ধাপে রূপান্তর করা উচিত।

“যেহেতু ১১ থেকে ২০ গ্রেডের মূল বেতনের পার্থক্য মাত্র ৫,০০০ টাকা, তাই বাড়িভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই ধাপগুলোকে আলাদা না করে ১৬ থেকে ২০ গ্রেডের জন্য নির্ধারিত হারে একটি অভিন্ন ও এক ধাপে বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা উচিত।”

এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন করলে নিচের কয়েকটি সুফল পাওয়া সম্ভব:

  • জটিলতার অবসান: বেতন নির্ধারণ ও বাড়িভাড়া সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের হিসাব-নিকাশ ও জটিলতা দূর হবে।

  • মর্যাদাপূর্ণ জীবন: ১৬-২০ গ্রেডের নির্ধারিত হারে সবার জন্য একটি সম্মানজনক বাড়িভাড়া নিশ্চিত হলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান কিছুটা হলেও উন্নত হবে।

  • বৈষম্য হ্রাস: গ্রেডভিত্তিক অসম বৈষম্য কমিয়ে প্রশাসনজুড়ে এক ধরনের সমতা আনার এটিই উপযুক্ত সময়।

ভবিষ্যৎ করণীয়

সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশ এই ১১-২০ গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। তাদের মৌলিক অধিকার ও আবাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহলের উচিত অবিলম্বে বর্তমান তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বাড়িভাড়ার এই অযৌক্তিক ফারাক দূর করা। একটি যুগোপযোগী ও বৈষম্যহীন বাড়িভাড়া নীতি প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *