মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে নতুন ৫ লাখ ৮ হাজার ২২৪ উপকারভোগী
মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরে সারাদেশে মোট ৫ লাখ ৮ হাজার ২২৪ জন নতুন উপকারভোগী নির্বাচনের বিভাজন চূড়ান্ত করেছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, পোশাক খাতের কারখানা এবং চা বাগান মিলিয়ে এ বরাদ্দ ভাগ করা হয়েছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের মবিঅ-২ শাখা থেকে জারি করা এক স্মারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। স্মারকটি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. বিলকিস বেগম।
কীসের ভিত্তিতে বিভাজন
স্মারকে বলা হয়েছে, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পাঠানো প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন উপকারভোগীর তালিকা ও বিভাজন সিট অনুমোদন করা হয়েছে। এর আগে মন্ত্রণালয়ের গত ১২ আগস্টের ১৯৪ নম্বর স্মারক এবং অধিদপ্তরের ৩০ আগস্টের ৩৫৫ নম্বর স্মারক এ প্রক্রিয়ার সূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিভাজনে চারটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে:
- দারিদ্র্য
- খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা
- অপুষ্টির হার
- জনসংখ্যার ঘনত্ব
উপজেলা ও ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ
মোট বরাদ্দের সিংহভাগ গেছে গ্রামাঞ্চলে। ৫০৩টি উপজেলার ৪ হাজার ৫৮৬টি ইউনিয়নে বরাদ্দ ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮ জন, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৭৫ শতাংশ।
এই উপজেলাগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
- ১৭৭টি উপজেলা: এগুলোতে ১ হাজার ৫১১টি ইউনিয়ন রয়েছে। দারিদ্র্য, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও অপুষ্টির হার বেশি হওয়ায় প্রতি ইউনিয়নে মাসে ৯ জন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বছরে এ অংশের মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৬৩ হাজার ১৮৮ জন।
- ৩২৬টি উপজেলা: এগুলোতে ৩ হাজার ৭৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। প্রতি ইউনিয়নে মাসে ৬ জন করে বছরে বরাদ্দ ২ লাখ ২১ হাজার ৪০০ জন।
পৌরসভায় ৯৮ হাজার ৫৩২ জন
দেশের ৩৩২টি পৌরসভার ৩ হাজার ১১২টি ওয়ার্ডে মোট বরাদ্দ ৯৮ হাজার ৫৩২ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব অনুযায়ী পৌরসভাগুলোকে শ্রেণিভেদে ভাগ করা হয়েছে:
- ‘ক’ শ্রেণির ২০৭টি পৌরসভা: ১ হাজার ৯৮৭টি ওয়ার্ডে প্রতি ওয়ার্ডে মাসে ৩ জন করে বছরে ৭১ হাজার ৫৩২ জন।
- ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণির ১২৫টি পৌরসভা: ১ হাজার ১২৫টি ওয়ার্ডে প্রতি ওয়ার্ডে মাসে ২ জন করে বছরে ২৭ হাজার জন।
সিটি কর্পোরেশনে ১৬ হাজার ১০৪ জন
দেশের ১৩টি সিটি কর্পোরেশনের ৫০১টি ওয়ার্ডে মোট বরাদ্দ ১৬ হাজার ১০৪ জন:
- ঢাকার ২টি ও চট্টগ্রামসহ ৩টি সিটি কর্পোরেশন: ১৭০টি ওয়ার্ডে প্রতি ওয়ার্ডে মাসে ৪ জন করে বছরে ৮ হাজার ১৬০ জন।
- অন্য ১০টি সিটি কর্পোরেশন: ৩৩১টি ওয়ার্ডে প্রতি ওয়ার্ডে মাসে ২ জন করে বছরে ৭ হাজার ৯৪৪ জন।
পোশাক কারখানা ও চা বাগানের নারী শ্রমিকও অন্তর্ভুক্ত
এবার কর্মসূচির আওতায় শিল্প খাতের নারী শ্রমিকদেরও রাখা হয়েছে:
- বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও ফ্লাক্সার (FLAXA) অন্তর্ভুক্ত কারখানা: ৬০০টি কারখানায় প্রতিটিতে ১ জন করে মোট ৬ হাজার জন।
- চা বাগানের নারী শ্রমিক: পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করার প্রস্তাব রয়েছে। এ জন্য বরাদ্দ ৩ হাজার জন।
এক নজরে বরাদ্দ
| খাত | বরাদ্দ (জন) |
|---|---|
| উপজেলা (৪,৫৮৬ ইউনিয়ন) | ৩,৮৪,৫৮৮ |
| পৌরসভা (৩,১১২ ওয়ার্ড) | ৯৮,৫৩২ |
| সিটি কর্পোরেশন (৫০১ ওয়ার্ড) | ১৬,১০৪ |
| পোশাক কারখানা | ৬,০০০ |
| চা বাগানের নারী শ্রমিক | ৩,০০০ |
| সর্বমোট | ৫,০৮,২২৪ |
পরবর্তী পদক্ষেপ
স্মারকে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরকে পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। অর্থাৎ এখন মাঠপর্যায়ে উপকারভোগী বাছাই ও তালিকা তৈরির কাজ শুরু হবে। অনুলিপি পাঠানো হয়েছে মন্ত্রী ও সচিবের একান্ত সচিব, অতিরিক্ত সচিব (কার্যক্রম) এবং যুগ্মসচিব (কার্যক্রম)-এর ব্যক্তিগত কর্মকর্তার কাছে।

