জিপিএফ থেকে অফেরতযোগ্য অগ্রিম উত্তোলনের নিয়ম ও বিধি-১৩(৯) ও (১০) এর বিস্তারিত বিশ্লেষণ
জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (GPF) থেকে অফেরতযোগ্য অগ্রিম উত্তোলনের ক্ষেত্রে তহবিলে সঞ্চিত অর্থের সর্বোচ্চ ৮০% পর্যন্ত তোলার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া বয়স ৫২ বছর পূর্ণ হলে এই সংক্রান্ত বিশেষ বিধি কার্যকর হয়।
জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড বা জিপিএফ (GPF) অ্যাকাউন্ট থেকে হিসাবধারীদের আর্থিক প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে প্রভিডেন্ট ফান্ড বিধিমালায় সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। সাধারণ অগ্রিমের পাশাপাশি জরুরি বা বিশেষ পরিস্থিতিতে ‘অফেরতযোগ্য অগ্রিম’ উত্তোলনের নিয়ম নিয়ে অনেকের মধ্যেই নানা প্রশ্ন থাকে। সম্প্রতি জিপিএফ বিধিমালা ১৩ এর উপ-বিধি (৯) ও (১০) অনুযায়ী অফেরতযোগ্য অগ্রিমের শর্তগুলো আরও স্পষ্ট করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ কত শতাংশ বা টাকা তোলা যাবে?
জিপিএফ বিধিমালা অনুযায়ী, অফেরতযোগ্য অগ্রিমের পরিমাণ কোনোভাবেই আবেদনকালের পূর্ববর্তী জুন মাসের বা বর্তমান জমার স্থিতি অনুযায়ী তহবিলে সঞ্চিত মোট অর্থের ৮০ শতাংশের (৮০%) বেশি হবে না। এই অগ্রিম একাধিকবার প্রদান করা যেতে পারে, তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে উত্তোলনের পরিমাণ উক্ত সময়ে তহবিলে সঞ্চিত অর্থের ৮০% সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। গৃহ নির্মাণের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য।
গুরুত্বপূর্ণ শর্ত: বিধি-১৩(৯) ও (১০) অনুযায়ী, চাঁদা দাতার বয়স ৫২ বছর পূর্ণ হলে তিনি ইচ্ছা করলে পূর্বে গৃহীত এক বা একাধিক সাধারণ অগ্রিমের অপরিশোধিত অংশকে অফেরতযোগ্য অগ্রিমে রূপান্তর করতে পারেন। এই রূপান্তর চূড়ান্ত প্রদানের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়।
অফেরতযোগ্য অগ্রিমের মূল বৈশিষ্ট্য ও উদ্দেশ্য
চাঁদা দাতার বয়স ৫২ বছর পূর্ণ হলে কৃষি জমি ক্রয়সহ আইনগত ও প্রকৃত উদ্দেশ্যে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ অফেরতযোগ্য অগ্রিম মঞ্জুর করতে পারেন। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
-
বেতন থেকে কর্তন নয়: অফেরতযোগ্য অগ্রিম হিসেবে উত্তোলিত অর্থ পরবর্তীতে মাসিক বেতন থেকে কোনো কিস্তিতে কর্তন করা হয় না।
-
চূড়ান্ত হিসাবে সমন্বয়: এই অগ্রিম গ্রহণের পর তা চূড়ান্ত হিসাব বা অবসরের সময় চূড়ান্ত পাওনা থেকে সমন্বয় করা হয়।
-
একাধিকবার উত্তোলনের সুযোগ: তহবিল পর্যাপ্ত থাকলে বিধি মেনে একাধিকবার এই সুবিধা নেওয়া সম্ভব, যা চূড়ান্ত পরিশোধের অংশ হিসেবে ধর্তব্য হয়।
আবেদন প্রক্রিয়া ও করণীয়
জিপিএফ থেকে অগ্রিম বা অফেরতযোগ্য উত্তোলনের জন্য নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে (AG Office) বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন পেশ করতে হয়। আবেদন করার পূর্বে নিজের সর্বশেষ অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স বা বার্ষিক হিসাব বিবরণী ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সঠিক ও সুনির্দিষ্ট হিসাবের জন্য আপনার নিকটস্থ হিসাবরক্ষণ অফিস (AG Office) অথবা সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টস সেকশনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

