আইএমএফের ঋণের সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন: অর্থমন্ত্রী
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামো (নবম পে-স্কেল) বাস্তবায়ন নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ঋণের কোনো সম্পর্ক নেই। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, নতুন বেতনকাঠামোর কাজ এগিয়ে চলছে এবং প্রজ্ঞাপন জারি হতে আর বেশি সময় লাগবে না।
গতকাল এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আইএমএফের ঋণের সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই। কাজ চলছে। বেতনকাঠামো হবে এবং প্রজ্ঞাপন জারি হতে বেশি সময় লাগবে না।”
আইএমএফ নিয়ে গুঞ্জনের জবাব
সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছিল, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ফলে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং এর প্রভাব আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির ওপর পড়তে পারে। এমন প্রশ্নের জবাবেই অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, আইএমএফের ঋণ এবং নতুন বেতনকাঠামো দুটি পৃথক বিষয়। অর্থাৎ বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কারণে আইএমএফের নতুন ঋণ পাওয়া বা না পাওয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।
অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিদ্যমান অনিশ্চয়তা অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারির ইঙ্গিত
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন জারি করতে আর বেশি সময় লাগবে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যদিও তিনি প্রজ্ঞাপন প্রকাশের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করেননি, তবে তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলছে।
গণমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন সংবাদ নিয়ে ক্ষোভ
নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিদিন নানা ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় কিছুটা বিরক্তিও প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে একেক গণমাধ্যম একেকভাবে সংবাদ প্রচার করছে। করুক। আমি একবারেই কথা বলব।”
এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন, আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের জল্পনা বা অনুমাননির্ভর সংবাদে মন্তব্য করতে তিনি আগ্রহী নন। সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে একবারেই বিস্তারিত জানানো হবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা
দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতনকাঠামোর অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান বেতন কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত নতুন পে-স্কেল কার্যকরের দাবি বিভিন্ন সংগঠন থেকে জানানো হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যে নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে যে, বহুল আলোচিত নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন খুব শিগগিরই প্রকাশিত হতে পারে এবং বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সারসংক্ষেপ
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে তিনটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—
- আইএমএফের ঋণের সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই।
- নতুন বেতনকাঠামোর কাজ চলমান এবং প্রজ্ঞাপন জারি হতে বেশি সময় লাগবে না।
- বেতনকাঠামো নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবেদনের বিষয়ে এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না অর্থমন্ত্রী; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে একবারেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এ অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টি এখন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বহুল প্রতীক্ষিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের দিকেই।

